সমকালীন চাহিদা ও কওমি মাদরাসা আধুনিকায়ন

লিখেছেন, মুফতি আরশাদ ফারুকী

উপমহাদেশে কওমি মাদরাসাগুলোর অবদান অসামান্য। মাদরাসাগুলোর ইতিহাস শত শত বছরব্যাপী। এই মাদরাসাগুলোতে যে শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হয় তা ‘দরসে নেজামি’ নামে পরিচিত। এই শিক্ষাক্রম বা সিলেবাস যুগের চাহিদা অনুযায়ী সমকালীন সব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছিল এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে যোগ্য জনশক্তি তৈরির জন্য উপযুক্ত ছিল। এই সব মাদরাসা থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে যারা বের হতেন তারা যেমন ধর্মীয় ক্ষেত্রে পথনির্দেশের দায়িত্ব পালন করতেন তেমনি জাগতিক বিষয়াদিতেও নেতৃত্ব দিতেন। তারা মসজিদে ইমামতি করতেন তেমনি কায়-কারবারের সমস্যা ও জটিলতার সমাধান করতেন।

এই সিলেবাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুরআন মজিদ ও হাদিস। সহায়ক হিসেবে প্রাচীন আরবি সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ, প্রকৌশল, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার শিক্ষাও দেয়া হতো। সেই যুগের রীতি অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হতো। এই ধারা বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে উত্তরাধিকার হিসেবে চলে আসছিল। মোট কথা, দরসে নেজামি যে যুগে চালু হয়েছিল সেই যুগের পরিস্থিতি অনুযায়ী ছিল। যখন সমকালীন ঝোঁক প্রবণতা বদলে যেতে লাগল তখন নতুন দর্শনের সূক্ষ্মতা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ জনপ্রিয় হতে থাকে। বর্ণনা পদ্ধতি ও লেখার আঙ্গিকে পরিবর্তন এলো। তখন শিক্ষাবিদরা যুগের গতি অনুধাবন করে সিলেবাসে আংশিক সংস্কারের পদক্ষেপ নিলেন। হজরত শাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. ছিলেন এই দলের নেতা। তিনি মাদরাসাগুলো থেকে প্রাচীন দর্শনের চুলচেরা বিশ্লেষণ দূর করলেন নতুন ইলমে কালাম চালু করে। তিনি দর্শনের প্রতাপ খর্ব করলেন এবং হাদিস শাস্ত্রকে মূল উৎস থেকে আহরণ করে ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা তুলে ধারার জন্য রচনা করলেন ‘মুসাওয়া’, ‘মুসাফফা’ ইত্যাদি মূল্যবান কিতাব। শরিয়তের বিধানগুলোর তাৎপর্য ও গূঢ় রহস্যকে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে ফুটিয়ে তোলার জন্য রচনা করলেন ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ’ গ্রন্থ। এভাবে তিনি ইসলামী জ্ঞানচর্চার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।

তার শিক্ষা পরিবার এই সংস্কার কর্মকে এগিয়ে নিলো। তারপর এই পরিবারের কাছে শিক্ষাপ্রাপ্ত এক মহান ব্যক্তি মাওলানা মামলুক আলী ইতিহাসে মোড় ফেরানো ও যুগস্রষ্টা দুই শিষ্যকে (মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী ও স্যার সৈয়দ আহমদ খান) অত্যন্ত শ্রম ও সাধনা দিয়ে তৈরি করলেন। তাদের একজন দ্বীনি শিক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করলেন দেওবন্দে। অন্যজন আধুনিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেন আলীগড়ে। এই মহান শিক্ষক মাওলানা মামলুক আলীর নাম এবং তার দুই শিষ্য মাওলানা মুহাম্মাদা কাসেম নানুতবী ও স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত দুই প্রতিষ্ঠান আজো মুসলিম উম্মাহর সম্মান ও মর্যাদার রক্ষক হিসেবে বিদ্যমান।

দারুল উলুম দেওবন্দে দরসে নেজামির উল্লেখযোগ্য সংস্কারের সাথে চালু করা হয়েছিল যা তখনকার জন্য সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ সিলেবাস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে দেওবন্দের শিক্ষাপ্রাপ্তরা ছিলেন প্রথম সারিতে। ওই সিলেবাস তখনকার যুগ অনুযায়ী জনশক্তি তৈরির দায়িত্ব পালন করেছে। অবশ্য ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের সাথে যুদ্ধরত থাকার কারণে এতে ইংরেজি ভাষা ও পশ্চিমা দর্শনকে স্থান দেয়া হয়নি। মাওলানা নানুতবী রহ. ইংরেজি ভাষার প্রয়োজন অনুভব করেন হজের সফর থেকে ফেরার পথে এক খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারকের সাথে দোভাষীর মাধ্যমে আলোচনা করে। তিনি অনুভব করলেন, ইংরেজি ভাষা অবশ্যই শিখতে হবে। দারুল উলুমের প্রতিষ্ঠাতার এই সঙ্কল্প দারুল উলুমের শিক্ষাপ্রাপ্ত ও পরিচালকদের জন্য বিশেষভাবে এবং সমস্ত দ্বীনি মাদরাসা ও আলেমদের জন্য সাধারণভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা। মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী রহ. সে যুগেই ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। বর্তমান যুগে সেই প্রয়োজনীয়তা আরো অনেক বেশি। মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী রহ. ও তার পূর্বসূরি উলামায়ে কেরামের কর্মকাণ্ড থেকে এ সত্য দিবালোকের মতো ফুটে ওঠে যে, দ্বীনি মাদরাসাগুলোর সিলেবাস আয়না হলেও এমন কাচ নয় যা হুবহু বহাল রাখতে হবে, নইলে তা চুরমার হয়ে যাবে। তেমনি তা এমন কোনো মহিমান্বিত বিষয় নয় যাতে সংস্কার করা হলে মহিমা চলে যাবে।

দারুল উলুম দেওবন্দ ও এই ধারার মাদরাসাগুলো কয়েক দশক ধরে পুরনো সিলেবাস চালু রাখে। তারপর উপমহাদেশের একদল আলেম যুগের পরিবর্তনশীল গতিধারা অনুধাবন করে লক্ষ্ণৌতে নদওয়াতুল উলামা প্রতিষ্ঠা করলেন। এখানকার সিলেবাসে আধুনিক আরবি সাহিত্য, ইতিহাস, ইংরেজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া হয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুগের চাহিদার প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখা হলো। তারপর একই চিন্তার ধারক আলেমরা আযমগড়ের সরাইমিরে প্রতিষ্ঠা করেন মাদরাসাতুল ইসলাহ। এই মাদরাসা সেই যুগের শিক্ষাক্রম যে সংস্কার আনে তা অন্যান্য মাদরাসার জন্য চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। এখানে বিশেষভাবে বিএ’র সমান ইংরেজি ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান এ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জয়পুরে জামেয়াতুল হেদায়াহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন সংস্কার চিন্তা নিয়ে। এখানে দ্বীনি বিষয়াদির পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী সমকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে আরেক ধাপ এগিয়ে শিল্প ও কারিগরি বিদ্যাকে সিলেবাসের অংশ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের বিষয় করা হয়েছে।

বিভিন্ন যুগে নতুন ধরনের দ্বীনি মাদরাসার প্রতিষ্ঠা থেকে প্রমাণিত হয়, যুগের চাহিদাকে চিন্তাশীল আলেমরা সবসময় বিবেচনায় রেখেছেন এবং তারা যুগের নাড়ির স্পন্দন অনুধাবন থেকে পিছিয়ে ছিলেন না। এভাবে মাদরাসাগুলো আধুনিকায়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য মাঝে মাঝে স্থবিরতা ও জড়তার সময়ও পার হয়েছে।
আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে, মাদরাসাগুলোতে যে সিলেবাস পড়ানো হতো তার ভিত্তি ও মৌলিক বিষয় ছিল কুরআন মজিদ, হাদিস শরিফ এবং এতদুভয় থেকে আহরিত ইসলামবিধান যা ফিকাহ নামে পরিচিত। সিলেবাসের এই অংশে বিশেষ করে কুরআন ও হাদিসে পরিবর্তন বা সংশোধন আনা অসম্ভব। সিলেবাসের বাকি অংশ অপরিবর্তনশীল নয়। দেশ, যুগ ও অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে সিলেবাসে প্রভাব পড়ে এবং যুগের নতুন চাহিদা সিলেবাসে পরিবর্তনের চাহিদা তৈরি করে। উপমহাদেশের বিদ্যমান মাদরাসাগুলো মুসলমানদের জাতীয় স্বকীয়তা, আকায়েদ, দ্বীনের পরিচিতি রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এ মাদরাসাগুলোর অতীত ইতিহাস উজ্জ্বল ও ভাস্বর। এ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্তরা ধর্মীয় নেতৃত্ব ও ধর্মীয় চাহিদা পূরণের দায়িত্ব পালন করেন। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই আলেমরা শুধু অংশ নেননি, সাধনা শুরু করেছিলেন ফতওয়া ও জিহাদের মাধ্যমে এবং এই আন্দোলনে তারা নেতৃত্বের ভূমিকা রেখেছে।

মাদরাসার শিক্ষাপ্রাপ্তরা কোথাও সংখ্যায় স্বল্প হলেও সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে কখনোই উদাসীন ছিলেন না; তারা দেশ ও জাতির খেদমতে সামান্য ত্রুটিও করেননি। স্বাধীনতার পর পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে সে জন্য মাদরাসাগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছেÑ মাদরাসাগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং রূপরেখা পেশ করা হয়েছে। কোনো কোনো মহলের পক্ষ থেকে মাদরাসাগুলোতে প্রচলিত সিলেবাসের নিন্দাও করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও মাদরাসাগুলোকে আধুনিকায়নের পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা ও উপকরণগত সহায়তার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই সব প্রশ্ন ও প্রস্তাবের জবাব উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদরাসা এই দিয়েছে যে, ‘আমরা একটি বিন্দুও বিকিয়ে দিতে প্রস্তুত নই। যে সিলেবাস আমরা পড়াচ্ছি তা চূড়ান্ত। তাতে কোনো পরিবর্তন আনা অসম্ভব। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন আমাদের পূর্বসূরিরা। তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে যে সিলেবাস আমরা পেয়েছি তা থেকে চুল পরিমাণ সরে যাওয়াও তাদের অসম্মানের নামান্তর।’

এই শ্রেণীর প্রতি যুগের চাহিদা অনুযায়ী দ্বীনি খেদমতের অথবা দ্বীনি বা দুনিয়াবি ব্যাপারে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের আশা রাখা অহেতুক। তাদের জন্য শুধু দোয়া করে এবং সুধারণা রেখেই ক্ষান্ত হতে হবে।

শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবীদের এমন একটি আধুনিকতাপন্থী শ্রেণীও রয়েছে যারা মাদরাসাগুলোর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে চান। তারা চান প্রতিটি আধুনিকতা গ্রহণ করুক মাদরাসাগুলো এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যথেষ্ট পরিমাণ মাদরাসার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এই শ্রেণীর সুপারিশগুলো যদি মেনে নেয়া হয় তাহলে মাদরাসাগুলোর ঐতিহ্যবাহী পরিচিতি ও কাঠামোই শেষ হয়ে যাবে।

ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা এই যে, প্রাচীনতার আঁচল ছাড়া যাবে না, আবার আধুনিকতার আঁচলও বাদ দেয়া যাবে না। দ্বীনি শাস্ত্রে দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অবগতি একই সাথে অর্জনের সিলেবাস অনুসরণ করতে হবে। কুরআন-হাদিসের জ্ঞান-বিজ্ঞানে গভীরতা, পাণ্ডিত্য ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তারপর এসব শিক্ষাকে জগৎবাসীর সামনে উপস্থাপনের জন্য মাদরাসার গ্রাজ্যুয়েটদের এমন শুদ্ধ, সাবলীল ও শৈলীপূর্ণ ভাষা ও কলম দিতে হবে যার মাধুর্য জনগণের কাছে সমাদৃত হয়। তাদের রচনা ও বক্তব্য সাহিত্যের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। উপমহাদেশের যে প্রদেশের নাগরিক তিনি হবেন সে প্রদেশের ভাষায় তাকে পুরোপুরি দক্ষ হতে হবে। যুগের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরো অবগতি একজন আলেমের অন্যতম প্রধান শর্ত। মাদরাসাগুলোতে বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞতা অর্জনের নিয়ম চালু করা সময়ের অন্যতম দাবি। মোট কথা, মাদরাসাগুলোর আধুনিকায়ন সময়ের একটি চাহিদা এবং যুগের একটি দাবি কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করা অপরিহার্য। মাদরাসাগুলোর বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আধুনিকায়ন সংস্কারমূলক কাজের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত সিলেবাস প্রত্যেক ছাত্রকে সম্পন্ন করানোর প্রয়োজন নেই। বরং তিন ধরনের সিলেবাস তৈরি করা প্রয়োজন। একটি সিলেবাস এমন হবে যা দুই-তিন বছরের। এতে মৌলিক আকায়েদ, দৈনন্দিন মাসায়েল, মৌলিক তাজবিদ ও কেরাত, বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান থাকবে। এই সিলেবাস হবে মাদরাসার সেই সব ছাত্রের জন্য যাদের মেধা তেমন প্রখর নয়। এই সিলেবাস সম্পন্নকারীরা বিভিন্ন মক্তবের শিক্ষকতা, মসজিদের ইমামতি ও মুয়াজ্জিনি করতে পারবেন। দ্বিতীয় সিলেবাস হবে আরবিতে অথচ সংক্ষিপ্ত, যা হবে চার বা পাঁচ বছরের। তাতে বিস্তৃত সিলেবাসের সংক্ষিপ্তরূপ থাকবে। এই সিলেবাস পড়াতে হবে সেই ছাত্রদের যারা মেধাবী হলেও মাদরাসায় এসেছে অভিভাবকদের চাপে। তারা ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত লাভ করবে এবং জীবনে চলার পথে এই জ্ঞানকে তারা আলোকবর্তিক হিসেবে ব্যবহার করবে। তারপর তারা বিশ্ববিদ্যালগুলোতে গিয়ে তাদের রুচি ও আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হতে পারবে। তৃতীয় সিলেবাস হবে সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ, শুধু মেধাবী, পরিশ্রমী ও আগ্রহী ছাত্ররা এই সিলেবাস সম্পন্ন করবে এবং তাদের শিক্ষাদীক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন শিক্ষক ও পরিচালকরা। তাদেরকে গড়ে তোলার জন্য সব ধরনের উপায় উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। তাদেরকে খুব যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং পরিপূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে। তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিতে হবে।

প্রত্যেক যুগের নতুন পরিস্থিতি, পরিবর্তনশীল মূল্যবোধ যে সব নতুন প্রশ্ন তৈরি করে যেগুলো অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা, নৈতিকতা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সহ জীবনের বিভিন্ন দিকের সাথে সম্পর্কিত সেগুলো সমাধানের জন্য মাদরাসায় ইসলামী বিষয় শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। স্বয়ং ফিকাহর নতুন সঙ্কলন প্র্রয়োজন। আধুনিক আইনি নিয়মে ইসলামী বিধানের বিন্যাসের প্রতি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ফিকাহর পৃথক পৃথক শাখায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা দরকার। একজন মুফতি শরিয়তের সব বিষয়ে অভিমত দেবেন না; বরং একেকজন মুফতি একেক শাখায় বিশেষজ্ঞ হবেন যেমন, আধুনিক চিকিৎসা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইত্যাদি একেকটি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষজ্ঞ থাকা উচিত। একজন আলেম যখন শুধু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন, তখন এই বিষয়ের শরয়ি বিধান জানাতে তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে কম।

অনুবাদ : মাওলানা লিয়াকত আলী
২৭ জুন ২০২০, ০৯:৫১
দৈনিক নয়দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *