বাচ্চাদের জন্য টেলিভিশ ও সিরিয়াল

একবার ভেবে দেখেছেন বর্তমানে টেলিভিশনে শুধু বাচ্চাদের জন্য কতগুলো সিরিয়াল আছে? সিরিয়াল তো আছেই কয়েকটা চ্যানেলই আছে যেখানে শুধু শিশু বিষয়ক প্রোগ্রাম প্রচার করা হয়। একবার ভাবুন তো তাদের ব্যবসাটা কোথায়, উদ্দেশ্যটা কি?

তাদের উদ্দেশ্যটা হল আপনার ও আমার সন্তানকে তাদের টিভি সিরিয়ালের সামনে আটকে রাখা। আর এর মাঝেই তাদের ব্যবসা। যে যত বেশি বাচ্চা টিভির সামনে আটকে রাখতে পারবে তার টি.আর.পি.(টেলিভিশন র‌্যাঙ্কিং প্রোগ্রেস) তত বেশি হবে। আর সে তত বেশি ইনকাম করতে পারবে। এই জন্য তারা অনুষ্ঠানগুলি এমন ভাবে সাজায় যাতে বাচ্চারা দেখে আবার দেখার অপেক্ষায় থাকে। আর দেখে একজন আরেকজনকে বলতে পারে যেন তারাও অনুষ্ঠানটা দেখতে আগ্রহী হয়।

এটা হল তাদের কার্যক্রম। আর আমরা কোন চিন্তা ছাড়াই তাদেরকে লক্ষ-উদ্দেশ্যে পৌছাতে সহযোগীতা করে যাচ্ছি। সেটা করতে গিয়ে নিজেদের সন্তানের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। মূল কথা হল কে বিজনেস করছে আর কে লসে আছে সেটা দেখার বিষয় নয়, দেখার বিষয় হল এদ্বারা আপনার লস হচ্ছে কি না।

এসব সিরিয়াল দেখে বাচ্চাদের প্রচুর পরিমান সময়ের অপচয় হয়। যতক্ষণ দেখে শুধু ততক্ষণ নয় বরং এরপরেও এগুলি নিয়ে চিন্তা করে, কল্পনা করে, ভাবে এটা বাস্তবে হলে কেমন হবে ইত্যাদি। ফলে তার মূল পড়ার উপর প্রভাব পরে। শিশুর মাথায় যে ধারণ ক্ষমতা আছে তা সিরিয়ালের জ্ঞান দিয়ে লোড হয়ে থাকে ফলে মাথায় পড়া ঢুকতেই চায় না।

অনেকেই বলবেন যে এর দ্বারা মেধা বিকশিত হয়। হ্যাঁ ঠিক আছে তবে বাচ্চার লস কতটুকু হচ্ছে একটু ভেবে দেখুন। একবার লাভ-লস হিসাব করে তারপর না হয় ভেবে দেখতে পারেন।

টেলিভিশনের এসব সিরিয়াল কেন দেখাচ্ছেন বাচ্চাদেরকে? যদি বলি তাহলে অনেক অভিবাবক হয়ত বলবেন এসবের মাঝে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় থাকে তাই দেখাচ্ছি। এক লোক তো এমনও বলেছে যে এসব দেখার দ্বারা আমার ছেলে হিন্দি ভাষায় কথা বলতে পারে। কিন্তু সে এটা চিন্তা করেনি যে এসব দেখার দ্বারা তার ছেলে কতটুকু সময় নষ্ট করছে। সেই সময়টা যদি অন্যান্য কোন শিক্ষনীয় কাজে লাগাতে পারত তাহলে হয়ত সে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারতো।

শিক্ষণীয় বিষয়ের ব্যাপারে যদি বলতে যাই তাহলে বলতে হবে যে, হ্যাঁ টেলিভিশনে শিক্ষণীয় বিষয় যে একেবারেই নেই তা নয়। আছে তবে তা থেকে উপকৃত হওয়া কঠিন, এই জন্যে যদি সম্ভব হয় তাহলে বাচ্চাকে টেলিভিশন থেকে বিরত রাখবে। আমি তো এমন অনেক পরিবার দেখেছি যারা ‘শিশু টেলিভিশনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে’  শুধু একারণেই টেলিভিশন সরিয়ে ফেলেছে। ছেলে-সন্তানের বয়স যখন এমন হয়ে যায় যে, তার বিষয়বস্তুর গুরুত্ব তার অনুভুতিতে টাচ করে তখন থেকে রাখলে রাখা যেতে পারে।

যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে যে সকল অনুষ্ঠান শিক্ষণীয় মনে হয় সেগুলি অভিবাককের অধিনে থেকে দেখবে। সীমা-রেখা করে দিবে এর চেয়ে বেশি দেখতে পারবে না। যেন বিনোদের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা না পায়।

আবার অনেক অভিবাবক বলে থাকে যে, আমি চাই যে আমার ছেলে টেলিভিশন না দেখুক কিন্তু ফিরাতে পারি না। কিভাবে ফিরাতে পারি? এদের ব্যাপারে বলব যে, আপনি কট-কট করে হাড্ডি খাবেন আর বিড়াল মিয়াউ বললে দোষ; এটা তো হয় না। বিড়াল কে হাড্ডি না দিতে চাইলে আপনাকেও হাড্ডি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

কি বলতে চাচ্ছি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, অধিকাংশ ফ্যামিলিতে অভিবাবক চায় যে শিশুরা সিরিয়াল না দেখুক কিন্তু সন্ধার পর থেকেই বাড়ীতে থাকা প্রায় সকল সদস্য মিলে সিরিয়াল দেখে যাচ্ছে। তাহলে কিভাবে আপনি আপনার শিশুকে বিরত করবেন? এজন্য আগে পরিবারের বড় সদস্যদের ঠিক করতে হবে, তারপর বাচ্চার দোষ দিতে পারবেন। বাচ্চারা হল ইট-সিমেন্ট-বালুর মত, এগুলি দিয়ে আপনি যা খুশি বানাতে পারবেন। আপনি অভিবাবক ও টিচার হলেন রাজ মিস্ত্রি। আপনি চাইলে এগুলোকে বহুতল প্রাসাদেও ব্যবহার করতে পারেন আবার চাইলে বারান্দার ফ্লোরও বানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *