ভ্রমনঃ টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র

নেত্রকোনা থেকে দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার, গন্তব্য হলো টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র । (যা আমরা প্রথমে জানতাম না), ৯০ কিলো যেতে ২ ঘন্টার বেশি লাগার কথা নয়। কিন্তু রাস্তার কন্ডিশন খারাপ হওয়ায় সঠিক সময় বলা যাচ্ছে না। সাদ মামা অবশ্য বলেছেন, ভাগ্যি ভালো থাকলেই কেবল সন্ধ্যার আগে যাওয়া যাবে গন্তব্যে। যাইহোক অনেকটা অভাব কনফিডেন্স নিয়েই বের হয়ে গেলাম।

রাস্তা খুব যে খারাপ, তা নয়। তবে হরেক রকমের যান ব্যবস্থায় অবস্থা দুরাবস্থা হয়ে গেছিলো।

প্রথম ৩০ কিলো ভালোই যাওয়া গেছে তারপর কিছুদূর কাচা রাস্তা, এক জায়গায় তো বাশের ব্রিজ, সেটা পার হতেই এক খাদ। জুতা খুলে কাদা পায়ে পার হতে হলো, এখানে তোফাজ্জল মামা ছাড়া সবার গাড়িই ঠেলে উঠাতে হইছিলো, সে কি করুন অবস্থা।

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ যাওযার পথে,

তারপর কিছু দূর দেখি নৌকা দিয়ে পারাপার, এটা আমাদের জন্য স্বাভাবিক, তবে এখানের নৌকা গুলো মেইড ফর নৌকা পারাপার, যার ফলে ছোট্ট ছোট্ট নৌকাতেই ৪/৫ টা করে বাইক উঠাতে কোন মুশকিল হচ্ছে না। সীস্টেম টা বেশ ভালোই লেগেছে, যদিও আসার সময় প্রায় তিনগুণ ভাড়া দিয়ে পার হতে হইছিলো। যাগগে, বারবার তো আর নিবে না! 😄

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র যাওয়ার রাস্তায় ঝর্ণার পানির নালা/নদী পার হওয়ার দৃশ্য ও ভ্রমন যাত্রা

গুগল ম্যাপে সকল ফটো দেখুন।

নেত্রকোনা পার হয়ে কলমাকান্দা হয়ে সুনামগঞ্জ ঢুকলাম। সুনামগঞ্জের থানার নামটা জানা নেই। তবে একটা পাচগাও ছিলো 😁। সুনামগঞ্জ ঢুকার পর থেকেই ইন্ডিয়ায়ার বিশাল বিশাল পাহাড় দেখা যাচ্ছিলো, কখনো বাম পাশে আবার কখনো সামনের দিকে, এভাবেই প্রায় ৪০/৫০ কিলো যাওয়া হয়।

এই পাহাড়গুলো সব পাথরের। এখান থেকে পাথর বিক্রি করে কোটি কোটি রুপি আয় করছে ইন্ডিয়া। এগুলো নাকি আমাদের ছিলো সময়ের পরিবর্তনে এখন আর আমাদের নেই; যাগগে, এইসব রাজনৈতিক বিষয়ে আমি একটু মূর্খ। 🥱

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র যাওয়ার রাস্তায় ইন্ডিয়ার পাহাড়ের দৃশ্য।

প্রায় ১/২/৩ কিলো দূরের পাহাড়ের সূচনা দেখা যাচ্ছে, সেখানে মানুষ গরু চরাচ্ছে। মানুষ গুলোকে দেখতে এক দেড় ইঞ্চির মতো লাগতেছে। খুব বেশি দূর না হলেও কাটা তারের ওপারের মানুষ গুলো অনেক দূরের হয়। কাছে থেকেও বহু দূরে।

যাইহোক কিছুদূর যেতেই একটা নালা, যা দিয়ে মূলত পাহাড়ের পানি যায়। এখানে হাটু সমান পানি থাকলেও বাইকের উপর দিয়ে চলে গেছে, তবে এখানে এসে আরও কয়েকজন থেকে জানতে পারলাম সামনের রাস্তা অনেক খারাপ, অবশ্য তাদের মোটরসাইকেলই বলছিলো যে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। যাইহোক ওরা একটা আঅল্টারনেটিভ বলে দিলো যেন সামনে থেকে নৌকা/ট্রলার নিয়ে নেই।

সামনে থেকে ট্রলার নিলাম, প্রায় ১০ কিলো হবে ট্রলারে করে যেতে হবে। দুইটি ট্রলার ভাড়া করলাম মোটরসাইকেল একটা ছাদে উঠাইলাম, প্রথমে কিছু টা ভয় লাগলেও পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন প্রায় সূর্য ডুবে ডুবে ভাব। গোধূলি বেলার সূর্যের লালিমা পানিতে পরে আবার আমাদের গায়ে আছড়ে পড়ছে। অনুভূতি টা সেই ছিলো। আমার দেখা সেরা একটি সন্ধ্যা ছিলো। এমন ভ্রমন বারবার করতে মন চায়।

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র যাওয়ার পথে নৌকায় সেলফি।

তারপর আরও প্রায় ঘন্টা খানেক চলার পর আমরা আমাদের গন্তব্যে এসে পৌছালাম। কিন্তু আফসোস হলো ততক্ষণে সূর্য আর নেই। রাত সাড়ে সাতটা বাজে। ৪ ঘন্টার উপর সময় লেগেছে।

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ রাতের আধারে পাহাড়ের লাইটগুলো সুন্দর দৃশ্য

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ রাতের আধারে পাহাড়ের লাইটগুলো সুন্দর দৃশ্য দেখতে ভালোই লাগছিল। আসলেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আবারো যাওয়ার ইচ্ছে আছে, আবার যাবো, অনেক মজা করব। সময় নিয়ে যাবো। সাড়া দিন ঘুরব, পরিবার নিয়ে মজা করব।

টেকেরঘাট সুনামগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র যাওয়ার পথে দূরে পাহাড়ের  দৃশ্য।

তবে এখান থেকে পাহাড়ের লুকিং ছিলো গর্জিয়াস, আমি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চিটাগাং এর বহু পাহাড় দেখেছি তবে এটা ছিলো অন্য রকম, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে ঘোরানো-পেচানো রাস্তা, রাস্তার পাশে ইলেকট্রনিক লাইট, রাতের অধারে লাইটগুলো জ্বলে থাকে, দৃশ্যটা দেখার মতই ছিল।

সেখানের একটি মসজিদে নামাজ পড়ে হালকা নাস্তা খেয়ে ফেরার পথে ছুটলাম রাত ৮ টায়।

আলহামদুলিল্লাহ ঠিকঠাক বাসায় আসতে পারলাম সবাই।
বাসায় আসার পর ঘড়ি দেখলাম রাত ১১ঃ৫৫ বাজে।
কিছু পাগলোমির সীমা রেখা না থাকা চায়।😄 মনে থাকবে যত দিন আমরা থাকবো। 😊

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *